নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশত ইটভাটা রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন। আর এ সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন।

 

বিভিন্ন সময় অভিযানে উপজেলায় ১২টি অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় ইটভাটায় ইট তৈরি ও পোড়ানোসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত কে শুনে কার কথা। কয়েকদিন যেতে না যেতেই ইটভাটার মালিকরা অদৃশ্য শক্তির বলে সেই গুঁড়িয়ে দেওয়া ড্রাম চিমনিগুলো নতুন তরে নির্মাণ করে আবার ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি কলসকাঠী ইউনিয়নের দাপড়কাঠী গ্রামের অবৈধ ড্রাম চিমনি রোদেলা ইটভাটার ছাড়পত্র না থাকায় ইটভাটা বন্ধে অভিযান চালিয়ে ভাটাটি গুঁড়িয়ে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে ভাটা মালিক রাজেক হাওলাদার ও শামিম হাওলাদের অদৃশ্য ক্ষমতা বলে আবারও শুরু করেছেন ইটভাটায় ইট পোড়ানো কার্যক্রম।

 

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে গত ১১ জানুয়ারি (রবিবার) গারুড়িয়া ইউনিয়নের ও কলসকাঠী ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন (দুবাই ব্রিকস, খান ব্রিকস এবং ওয়ান স্টার ব্রিকস ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইটভাটার ড্রাম চিমনী ভেঙে দেওয়া হয় ও কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়।

 

এছাড়াও গত ২১ জানুয়ারি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে লাইসেন্সহীন ছয়টি অবৈধ ইটের ভাটায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এই সময় ফরিদপুর ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন ওয়ান স্টার, সেভেন স্টার, টু এ স্টার, স্টার টু, এমএমবি, এশিয়া এই ছয়টি ভাটার নিষিদ্ধ চিমটি ভেঙে ফেলা হয় এবং অবৈধ ইটগুলোকে নষ্ট করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে পৃথক অভিযানে এই ১২টি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না ভাটা মালিকরা। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন অবৈধ ইটভাটার মালিকদের কাছে প্রশাসনও অসহায়। বৃহস্পতিবার সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, কলসকাঠি ইউনিয়নে দাপড়কাঠী গ্রামে আবাসিক এলাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে রোদেলা ইটভাটায় কাঠখড়ি দিয়ে নির্বিঘেœ পোড়ানো হচ্ছে ইট। পাশে থাকা ফসলি জমি ও পান্ডব নদীর মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরিতে।

এছাড়াও দেখা যায়, গারুড়িয়া, কলসকাঠী ও ফরিদপুর ইউনিয়নের অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও আবারও নতুন করে তারা ইট পোড়া শুরু করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাঝেমধ্যে এসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অভিযানের পর ইটভাটার মালিকরা পুনরায় আবার ইট পোড়া শুরু করে। এরপর আর তেমন প্রশাসনের অভিযান দেখা যায় না। প্রশাসনের উদাসীনতায় ইটভাটার মালিকেরা ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এখন ফসলি জমির মাটি কেটে অবাধে চালাচ্ছে অবৈধ ইটেরভাটাগুলো। প্রশাসনের অভিযানেও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এসব ইটভাটা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বনাঞ্চল উজাড় করে ট্রলি ও ট্রলারযোগে কাঠ এনে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ।

 

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নের আগে ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারা পুনরায় নাকি ভাটা চালু করেছে বলে জেনেছি। শীঘ্রই ওই ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক ইটভাটার মালিককে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আবার কেউ যদি অবৈধ ইটভাটা চালু করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।