নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল ঘোষণা করতে কেন বেশি সময় লাগবে এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, শুনতে পেলাম নির্বাচনী ফল ঘোষণা করতে নাকি অনেক সময় লাগবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভোটের ফল ঘোষণা না হলে বুঝব অসৎ উদ্দেশ্য আছে। তবে ফল ঘোষণার আগে আমাদের কোনো পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরে যাবে না। শনিবার নয়াপল্টন আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব, বায়রা ও অ্যাটাব এই তিন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, হাসিনা চলে যাবার পর যতটুকু ভালো থাকার কথা ছিল আমরা সেই ভালো নেই। শুধু পুলিশী অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোথাও ভালো নেই, স্বস্তিতে নেই। এটি আমাদের দুর্ভাগ্য। তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এ নির্বাচন। এটি কোনো দান নয়, মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান নয়। অনেকে মনে করে কয়েকদিনের আন্দোলনের ফসল ’২৪। ১৭ বছর আমরা আন্দোলন করেছি, অগণিত মানুষ শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন। আমরা অনেকের পায়ের মাটি শক্ত করেছি, ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি। যার পেছনে দেশের মানুষ কাজ করছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। আর মনে হয় ঢাকা-৮ আসনেই শুধু নির্বাচন হচ্ছে। একটি মহল এখানে এমন কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় যাতে সারাদেশের নির্বাচন বানচাল হয়। তারা নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছে। আমি ও আমার নেতাকর্মীরা ধৈর্য ধারণ করছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, আল্লাহ আমাকে ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছেন।
উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাকে শুধু সমর্থন দিলেই হবে না। আমার সমর্থক ও কর্মীদের সবার কাছে যেতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে যদি ১০ জন করে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে আমার কাজে লাগবে। শুধু আমার জয়লাভ বড় কথা নয়, সারাদেশে বিএনপিকে জয়ী হতে হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, এখন এমন কিছু ছেলেপেলে গজিয়েছে যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। সারাদিন শুধু আমাকে বকাবাজি করছেন। আমাকে বকা ছাড়া যেন তাদের অন্যকোনো কাজ নেই। তারা আমার সম্পর্কে কিছুই জানে না। এলাকার মানুষ আমাকে চেনে। ঢাকা-৮ আসন একটি ব্যবসায়িক এলাকা। এখানকার কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে স্বার্থের প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আর এর জন্য আন্দোলনের দরকার নেই। ভোট দরকার। আপনারা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে আমি জয়ী হব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, কষ্টার্জিত ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একটি দল নাকি ৪০ লাখ বোরকা বানিয়েছে। অনেকে পুরুষ সেজে ফলস্ ভোট দিতে পারে। বিএনপি নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে সভা-সমাবেশ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন একজন ব্যক্তির সারাজীবনের অর্জিত ভালো কাজ বা ভালো কর্মের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমি যখন তরুণ ছিলাম তখন আমার সামনে মঞ্চে বলা হতো উপস্থিত আছেন অমুক বর্ষীয়ান নেতা। আজকে আমার উদ্দেশে বলা হয় বর্ষীয়ান নেতা। আমার যে অভিজ্ঞতা তা অনেকেরই নেই।