নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ৫ নং জলাবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপরের সেতু ধসে পড়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। হঠাৎ করেই সেতুটি ভেঙে পড়ায় এলাকার কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নেছারাবাদ উপজেলার ট্যুয়াসের ও ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক জানান সেতুটি ছিল ওই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান সড়ক। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীসহ কয়েক হাজার মানুষ এক মাত্র সেতু ব্যবহার করে চলাচল করেন, সেতুর আশপাশে রয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, চারটি মসজিদ, দুটি ঈদগাহ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এছাড়াও প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস হওয়ায় সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, সেতুটি হঠাৎ ধসে পড়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নামাজে যাওয়া মুসল্লি, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি মেরামত করে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে পাশ্ববর্তী স্বরূপকাঠী বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই সড়কটিতে এই সেতুটি মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। সেতুটি ধসে পড়ার পর এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অনেকে বিকল্প সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করে চলাচল করছেন। বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের আশঙ্কা—দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, মাত্র তিন থেকে চার বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ধসে পড়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরে আসবে।