লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন পৌরশহরের ঐতিহ্যবাহী উত্তর বাজার বাইতুর রেজওয়ান জামে মসজিদের কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্মমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আব্দুল্লাহ আল-মামুন নামে ওই মসজিদের এক মুসল্লি। অভিযোগের বিষয়গুলো সুষ্ঠু তদন্ত করার পাশাপাশি মসজিদটি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালনা করারও দাবি করা হয়।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মসজিদের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজের সুবিধার্থে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে ২০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. মিজানুর রহমানকে বেছে নেন তিনি। মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর একের পর এক অর্থ কেলেঙ্কারি, মসজিদের খাদেম ও মুসল্লিদের সঙ্গে অসাদাচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছেন। মসজিদের কক্ষ দখল করে নিজে ব্যবহার করছেন মিজানুর রহমান।
অপরদিকে, মসজিদের নির্মিত দান বাক্সের অতিরিক্ত ইট কাউকে না জানিয়ে নিজের বাসার কাজের জন্য নিয়ে যান মিজানুর রহমান। এছাড়া মসজিদের পানি নিজের বাসায় ব্যবহার এবং বিভিন্ন বাজার থেকে আসা দান বাক্সের টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মসজিদের রিপেয়ারিং, অহেতুক কার্পেট ক্রয়, মসজিদে রঙ, গ্রিজার ক্রয়, ছাদ বাগানসহ প্রায় ৬ লাখ টাকা বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান। এছাড়া মসজিদের খাদেমদের দিয়ে নিজ বাসার বিছানা-চাদরসহ কাপড়চোপড় ধোয়া, বাসার ময়লা আবর্জনা অপসারণ করানো, সকাল-বিকাল হোটেল থেকে নিজের জন্য নাস্তা আনানো এবং ওই সকল খাদেমদের দিয়ে বডি ম্যাসাজও করান মিজানুর রহমান। তার কথা না শুনলে খাদেমদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার হুমকি দেন। মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের এমন কর্মকা-ে মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগের ব্যাপারে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার কোনোটিই সত্য না। তবে মসজিদের কাজে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা কমিটির রেজুলেশনের অনুযায়ী করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, উত্তর বাজার বাইতুর রেজওয়ান মসজিদের খরচের ব্যাপারে কমিটির সদস্যদের রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং যথাযথ ভাউচার গ্রহণ করা হয়। এখানে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সবকিছু করা হয়। কোনো সদস্য ইচ্ছা করলেই মনমতো কিছু করতে পারেন না। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদের টাকা জমার পরিমাণ বেড়েছে। মসজিদের সব টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হচ্ছে।