নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের কাশিমপুরে তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট, ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। অসহনীয় গরম, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অকটেন সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কাশিমপুর এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় টানা ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ঘরবন্দি মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও কষ্টকর করে তুলেছে।

কাশিমপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে অসংখ্য কলকারখানা ও গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গার্মেন্টস রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, পাশাপাশি শ্রমিকদের দুর্ভোগও বেড়ে গেছে।

শ্রমিকরা জানান, রাতভর ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে বিদ্যুৎ না পেয়ে বিশ্রাম নিতে পারছেন না, ফলে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। অন্যদিকে সকালে লোডশেডিংয়ের কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন কাজেও চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এছাড়াও, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সংখ্যাও অনেক। বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত গরমে কোমলমতি শিশুরা জ্বর, ঠান্ডা ও কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে অকটেন সংকটের কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে জ্বালানি সংকট। ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অকটেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে, যা মহাসড়ক থেকে শাখা সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে অত্র এলাকার হাসপাতালগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে না পারায় রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

পানিশাইল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ম্যানেজার মোঃ ফেরদাউছ সিকদার বলেন, “গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রাইভেট ক্লিনিকের তুলনায় এখানে কম খরচে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সরকারি কাজেও সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে এলাকায় দিনে মোটামুটি ৪ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে। এতে নিম্নআয়ের মানুষ সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছেন না।

তিনি আরও জানান, “ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাব পরীক্ষায় ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুরো গ্রিড সচল রাখতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

কাশিমপুরে বিদ্যুতের বর্তমান চাহিদা প্রায় ৯০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। প্রায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।