নিজস্ব প্রতিবেদক।। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। এবছর সমাজসেবা ও জনসেবা ক্যাটাগরিতে মরণোত্তরভাবে এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কিংবদন্তি জনস্বাস্থ্য কর্মী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পদক প্রদান করা হয়। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্র বারিষ হাসান চৌধুরী।

ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এর আগেও ১৯৭৭ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অবদানের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তাকে পুনরায় মরণোত্তরভাবে একই রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হলো, যা তার আজীবন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অবদান ও কর্মজীবন

১৯৪২ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণকারী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও দেশে ফিরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা দেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। পাশাপাশি তিনি গণমানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসা উদ্যোগ গড়ে তোলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১১ এপ্রিল ২০২৩ সালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মরণোত্তর এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মাধ্যমে তার আজীবন জনকল্যাণমূলক অবদানের প্রতি নতুন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করল জাতি।