নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আর জয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তখন শাহিন শাহ আফ্রিদি। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে স্লগ করতে গিয়ে বল স্রেফ ওপরে তুলে দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ক্যাচ নিতে ছুটলেন বোলার রিশাদ হোসেন। কিন্তু আপাত সহজ ক্যাচটি নিতে পারলেন না তিনি। মনে হলো, ম্যাচটিই বুঝে ফসকে গেল!
তবে সেই হতাশা চাপা দিয়ে পরের সময়টাতে দারুণ বোলিং উপহার দিলেন রিশাদ। আগের ওভারগুলোতে বিবর্ণ থাকা লেগ স্পিনার শেষ ওভারে দারুণ বোলিংয়ে হতাশ করলেন আফ্রিদিকে। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ জিতে সিরিজও জিতে নিল বাংলাদেশ।
সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারাল বাংলাদেশ।
আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বরে থাকা দলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এক ধাপ এগিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে ওঠা নিশ্চিত করল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ২৯০ রান। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম শতরানে ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন তানজিদ।
রান তাড়ায় শুরুতে বিপর্যয়ে পড়া পাকিস্তানের ত্রাতা হয়ে ওঠেন সালমান আলি আগা। আগের ম্যাচে তার রান আউট ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। এই ম্যাচ তিনি জমিয়ে তোলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে। শেষ দিকে দারুণ ইনিংস উপহার দেন আফ্রিদিও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপকে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (সাইফ ৩৬, তানজিদ ১০৭, শান্ত ২৭, লিটন ৪১, হৃদয় ৪৮*, রিশাদ ০, আফিফ ৫*; আফ্রিদি ১০-০-৫৫-১, রউফ ১০-০-৫২-৩, আবরার ১০-০-৪৯-১, ফাহিম ৪-০-২৪-০, মাসুদ ৮-০-৫৫-০, সাদাকাত ১-০-৯-০, সারমান ৭-০-৩৫-০)।
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সাহিবজাদা ৬, সাদাকাত ৬, ঘোরি ২৯, রিজওয়ান ৪, সামাদ ৩৫, সালমান ১০৪, মাসুদ ৩৮, ফাহিম ৯, আফ্রিদি ৩৭, রউফ ১, আবরার ০*; তাসকিন ১০-১-৪৯-৪, নাহিদ ১০-০-৬২-২, মুস্তাফিজ ১০-০-৫৪-৩, মিরাজ ১০-০-৩৭-০, রিশাদ , সাইফ ৩-০-১৮-০)।
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান।
ম্যান অব দা সিরিজ: তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।