মোঃ ফেরদাউছ সিকদার | ঢাকা।।  দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের অগ্রপথিক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর) এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

​আজ ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা ঘোষণা করা হয়। সমাজসেবা ও জনসেবা ক্যাটাগরিতে এই রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন তাঁরা।

​ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবদান:
মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সারাজীবন সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসার লড়াই করে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, ঔষধ নীতি এবং জনসেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘকাল ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সেবায় প্রতিষ্ঠানটি যে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে, সরকার এবার তাকেই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আরও ১৩ জন ব্যক্তি ও ৪টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর), বশির আহমেদ (মরণোত্তর), হানিফ সংকেত এবং জোবেরা রহমান লিনু। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত হয়েছেন অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ আরও অনেকে।

​আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক প্রদান করা হবে।

 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরণোত্তর এই প্রাপ্তি এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই স্বীকৃতি দেশের স্বাস্থ্যখাতে কর্মরতদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।