নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার বেতাগী উপজেলায় চরাঞ্চলের পতিত জমিতে তরমুজ চাষ করে বিশাল চমক দেখিয়েছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা। উপজেলার ৭নং সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী ভোড়ারচর এলাকায় প্রায় ১০০ একর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই চাষাবাদ শুরু হয়েছে। রিয়াজ, শাহাবুদ্দিন ও রাসেল নামের এই তিন উদ্যোক্তার ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ এখন পুরো জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীবিধৌত চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি এবং উন্নত মানের বীজ ব্যবহার করে এই চাষাবাদ করা হয়েছে। বিস্তৃত মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ, আর লতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে বড় বড় তরমুজ। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার ফলন হয়েছে আশাতীত।
উদ্যোক্তা রিয়াজ বলেন, শুরুতে অনেক ঝুঁকি ছিল, কিন্তু আমরা দমে যাইনি। সঠিক পরিকল্পনা আর নিরলস পরিশ্রমে এখন মাঠভর্তি ফসল। আশা করছি আর ১০ রোজার মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারব। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বড় ধরনের লাভের আশা করছি।
অন্যতম উদ্যোক্তা শাহাবুদ্দিন জানান, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রায় শতাধিক শ্রমিক নিয়মিত এই মাঠে কাজ করছেন। আরেক উদ্যোক্তা রাসেল বলেন, ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত দেখে গেছেন। আগাম বায়না নিয়ে আলোচনা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেতাগীর এই উদ্যোগ কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাদের মতে, চরাঞ্চলের মাটিকে এমন পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে তরমুজ চাষে এই অঞ্চলটি দেশের অন্যতম হাব হয়ে উঠতে পারে। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন এবং অন্য কৃষকরাও অনুপ্রাণিত হবেন।
এলাকাবাসীর মতে, এত বড় পরিসরে একযোগে তরমুজ চাষ এই অঞ্চলে বিরল। গাবতলীর এই ‘সবুজ বিপ্লব’ সফল হলে চরাঞ্চলের হাজার হাজার একর পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এখন কেবল ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা। যদি বাজারদর অনুকূলে থাকে, তবে দেড় কোটি টাকার এই বিনিয়োগ কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের জাগরণ সৃষ্টি করবে।