নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র রমজানে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়।

 

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান-এর ব্যক্তিগত উদ্যোগে চালু হয়েছে ন্যায্যমূল্যের অস্থায়ী বাজার, যেখানে সাধারণ বাজারের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।

 

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত এ বাজারে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের     নেতাকর্মীরা।

 

ন্যায্যমূল্যের বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, আলু ১২ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, শসা ৪৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইফতার সামগ্রীর মধ্যে খেজুর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাল্টা, আপেল ও কমলা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় ক্রেতাদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে আশপাশের বাজারেও পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। উদাহরণ হিসেবে তারা জানান, একদিন আগেও পাতারহাট বাজারে শসা বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ন্যায্যমূল্যের বাজার চালুর পর তা নেমে এসেছে ৪৫ টাকায়।

 

বাজারে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছিল। এই উদ্যোগ সেই অস্বস্তি অনেকটাই দূর করেছে। শুধু রমজান নয়, সারা বছর এমন বাজার চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

প্রথম দিন বাজার কার্যক্রম তদারকি করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দীপেন-এর নেতৃত্বাধীন একটি টিম।

 

তিনি জানান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভাঙার লক্ষ্যেই প্রতিমন্ত্রী এই উদ্যোগ নিয়েছেন এবং রমজানজুড়ে তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১৫০ টাকা কেজি দরে মুরগির মাংস বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ নাঈম ইসলাম তুহিন বলেন, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু বলেন, বরিশাল-৪ আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাজিব আহসান জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ন্যায্যমূল্যের এই বাজারও তারই ধারাবাহিকতা, যা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।