নিজস্ব প্রতিবেদক।। গাজীপুরের কাশিমপুরে স্থানীয় প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারিতে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাংবিধানিক গণভোট-এর ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
ভোট চলাকালীন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, কাশিমপুর থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা ভোট দিয়ে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারছে। প্রশাসনের ভূমিকা এখন পর্যন্ত ইতিবাচক। আমরা আশা করছি, শেষ পর্যন্ত এই পরিবেশ বজায় থাকবে এবং জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হবে।
স্থানীয় জামায়াত আমির একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জানান, “আলহামদুলিল্লাহ, নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত অত্যন্ত চমৎকার। সাধারণ মানুষ উৎসবের আমেজে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা আমাদের আশাবাদী করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকের স্থানীয় সমন্বয়ক বলেন, “আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে এজেন্ট দিয়েছি। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো পেশিশক্তির প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ভোটাররা নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারছেন, এটাই বড় প্রাপ্তি।
জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা বলেন, “কাশিমপুরের ইতিহাসে এমন সুশৃঙ্খল ভোট খুব কমই দেখা গেছে। ভোটারদের দীর্ঘ সারিই প্রমাণ করে তারা পরিবর্তনের পক্ষে প্রশাসনের তৎপরতায় আমরা সন্তুষ্ট।
এদিকে নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে র্যাব এবং বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি বজায় রাখতে মাঠে কাজ করছেন একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সকাল থেকেই নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সংসদীয় আসনের প্রার্থীর পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশক ‘গণভোট’ নিয়েও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনী তদারকিতে থাকা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আমরা সার্বক্ষণিক কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং এরপর প্রশাসনের কঠোর পাহাড়ায় ব্যালট গণনা শুরু হবে।