নিজস্ব প্রতিবেদক : সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর এক জনসভায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন পরিচয় দিয়ে এক নারী মঞ্চে বক্তব্য দিলেও, পরবর্তীতে হাদির স্ত্রীর পক্ষ থেকে একে ‘ভুয়া’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

 

জনসভার একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত এক নারী নিজেকে শহীদ উসমান হাদির বোন দাবি করে মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জামায়াত ও এনসিপি জোটের নেতা নাহিদ ইসলামকে যেকোনো মূল্যে জয়ী করার আহ্বান জানান। এই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই নারীর পরিচয় অস্বীকার করেন। ভিডিওর একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে তার ওপর বড় বড় অক্ষরে ‘ভুয়া’ লিখে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

 

পোস্টে শম্পা বলেন, শহীদ ওসমান হাদি তাঁর জীবনদ্দশায় কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না। আপনারা সবাই জানতেন সে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তাই আশা করবো কোন দল তাদের নিজ স্বার্থে শহীদ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করবেন না। সবাই তার আদর্শ ব্যবহার করুন তাতে আমাদের কোন বাধা নেই।

 

দল দেখে নয়, যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে রাবেয়া ইসলাম শম্পা বলেন, আর আপনারা রাজনৈতিক দলগুলো কে তার পরিবার,আর কে নয় যাচাই না করেই শুধু দলের স্বার্থে যে কাউকেই হাদির পরিবার হিসেবে দাড় করাচ্ছেন। ওসমান হাদির পরিবার এবং ইনকিলাব মঞ্চ থেকে আমরা সব সময় বলে এসেছি কোন দল দেখে নয় যোগ্য প্রার্থী দেখে আপনারা ভোট দিবেন সে যে দলের হোক। সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দলে দলে আপনার মতে যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকে আপনার মূল্যবান ভোটটি দিয়ে আসবেন।

 

অন্যদকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতু দাবি করেন, ওই নারী হাদির ফুফাতো বোন। অন্যদিকে, আরেক নেত্রী জুমা দাবি করেন, তিনি হাদির দূরসম্পর্কের কোনো আত্মীয় হতে পারেন।

 

এদিকে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একজন শহীদের আবেগ ও পরিবারের পরিচয় ব্যবহার করে এমন মিথ্যাচারে ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, যারা একজন শহীদের মৃত্যুকে নিয়ে এভাবে ব্যবসা করতে পারে, তারা ভবিষ্যতে মানুষের আমানত রক্ষা করবে কী করে?

 

কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত আমিরের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা দলের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য শহীদের স্মৃতিকে পুঁজি করার এই চেষ্টাকে তারা ‘সুবিধাবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইমোশনাল ম্যানিপুলেশন বা আবেগীয় প্রতারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।