নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে বরিশাল সদর (বরিশাল-৫) আসনে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনভর গণমিছিল, সমাবেশ ও ঝটিকা গণসংযোগে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা নগরী। শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণায় প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও ভোট প্রার্থনা করেন।

 

বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর সদর রোডে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার বলেন, “শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের অবশেষ মুছে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।

 

 

সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে তিনি নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে গণমিছিল করেন।

 

 

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) দিনভর নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তিনি ফরচুন, বেঙ্গল ও খান সন্স টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

 

এসময় তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে বিসিক শিল্প এলাকাকে চাদাঁবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত করে একটি আধুনিক শিল্পবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” এছাড়া তিনি কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

 

 

একই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ‘মই’ প্রতীকের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী দিনভর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সাথে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করেন। তিনিও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় মই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

 

 

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন। প্রচারণার শেষ দিনে প্রার্থীদের এই মারমুখী অবস্থানে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।