ভা-ারিয়া প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে এক কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

 

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায়ে মোট ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ প্লাটুন সরাসরি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ইউনিয়নে টহল দেবে এবং ১ প্লাটুন সেনাসদস্যকে ‘রিজার্ভ ফোর্স’ হিসেবে রাখা হয়েছে, যারা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সাড়া দেবে।

 

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলায় সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাব (জঅই) ১ প্লাটুন, বিজিবি (ইএই) ১ প্লাটুন, পুলিশ ৫ প্লাটুন এবং আনসার ব্যাটালিয়ার ১ প্লাটুন।

 

কেবল মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, আইনি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে উপজেলায় ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে থেকে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

 

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনি মোতায়েন করা ভা-ারিয়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

স্থানীয় ভোটার মিলন শরিফ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির এই সমন্বিত উপস্থিতি তাদের মনে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস জোগাচ্ছে। বিশেষ করে রিজার্ভ ফোর্সের ব্যবস্থা থাকায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রির্টানিং অফিসার রেহেনা আক্তার জানান, ভা-ারিয়ার ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, গুজব ছড়ানো বা নাশকতামূলক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের টহলও নিয়মিত রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় হবে।