অনলাইন ডেস্ক : ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির কিংবা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনীসভা করা যাবে না— আচরণবিধিতে এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবু ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী সভার লিখিত অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। অনুমতির কাগজ হাতে পাওয়ার পরই মাঠে গড়ে ওঠে অস্থায়ী মঞ্চ। সেখানেই হয়েছে নির্বাচনী সভা।

প্রশ্ন উঠছে, আচরণবিধি ঠিক কোথায় থামল, আর প্রশাসনিক ব্যাখ্যার সীমাই বা কতদূর।

 

ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী ধর্মীয় স্থাপনায় রাজনৈতিক সভা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়, আগের একাধিক নির্বাচনে একই বিধান কার্যকর ছিল।

তা সত্ত্বেও ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী সভার জন্য ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরে লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন দানা বাঁধছে।

জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মুহা. আলমগীর হোসেন সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন দাখিল করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।

ঝালকাঠী-২ আসনের প্রার্থী ইসলামী বক্তা মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ‘বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্মারকে ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ জানানো হয়।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি যাচাই করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ হয়েছে, এই যুক্তিতে ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুমতি দেন।

অনুমোতি পেয়েই বৃহস্পতিবার সকালে ঈদগাহ মাঠের এক প্রান্তে অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়। ইসলামী আন্দোলনের নেতা মুহা. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে ঈদগাহ মাঠে প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনীসভা করেছি। অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট স্যার লিখিত অনুমোতি দিয়েছেন। ওই সভায় ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রার্থীর পক্ষে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। এই মাঠে নির্বাচনী সভা না হলেও ধর্মীও অনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর আমির তফসিল ঘোষণার আগে এই মাঠে বক্তব্য দিয়েছেন।

এদিকে অনুমতি মিলতেই বুধবার ঈদগাহ ময়দানের চিত্র বদলে যায়। যেখানে সাধারণত ঈদের জামাত ও ধর্মীয় সমাবেশ হয়, সেখানে শুরু হয় নির্বাচনী সভার জন্য অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ। বাঁশ, ত্রিপল আর মাইক বসানোর প্রস্তুতি চলে পুরোদমে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বিস্মিত, কেউবা নীরব প্রশ্নে তাকিয়ে দেখেন। কিন্তু ঈদগাহ মাঠের এক পাশে রয়েছে ঝালকাঠি ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসা কাম মসজিদের তিনতলা ভবন। সেখানে রয়েছে অনেক শিক্ষার্থী।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী সভার জন্য জেলা প্রশাসনে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলেছি। তিনি বলেন, কোন জায়গায় অনুমতি প্রদান করবে, সেটা রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী সভা সংক্রান্ত ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঈদগাহ মাঠে সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদগাহ মাঠে নামাজ ছাড়া অন্যান্য সময়ে পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে থাকে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানটি সরকারি নয়। সে কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকার বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়।

তবে নির্বাচনী আচরণবিধির ১৫(খ) ধারায় ধর্মীয় উপাসনালয়ের কথা উল্লেখ থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ঈদগাহ মাঠে সভা করার ক্ষেত্রে কোনো বিধি-নিষেধ নেই।