ডেস্ক সংবাদ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ইরানিদের মধ্যে বিভেদ তৈরি না করে বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ও সাবেক কূটনীতিক আব্বাস খামায়ার।

 

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যে ইরানিদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং বিদেশি চাপ ও হুমকি ইরানি সমাজে জাতীয় ঐক্যের অনুভূতি আরও জোরদার করছে।

 

ইরানের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও খামায়ার পশ্চিমা গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেন। তেহরানের পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কোথাও কোথাও অপেক্ষার সময় বাড়লেও তা সর্বোচ্চ প্রায় আধঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এটি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি।

 

তাঁর দাবি, ইরানে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম এবং সহজলভ্য হওয়ায় দেশটির মাথাপিছু জ্বালানি ব্যবহার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় পাঁচ গুণ। ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সাময়িক চাপ তৈরি হলেও সেটিকে দেশের সম্পূর্ণ জ্বালানি সংকট হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে খামায়ার বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কর্মসূচিতে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ইরানি সমাজের ঐক্যের চিত্র পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, বহিরাগত হুমকি বা বিদেশি হামলার পরিস্থিতিতে ইরানিদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ আরও শক্তিশালী হয়।

 

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের নেতৃত্বে বিভাজনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেশ ও সরকারের ‘ঐক্য’ তুলে ধরেছিলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট স্পিকারও সে সময় ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করেন।

 

খামায়ারের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো মূলত মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এর কাঙ্ক্ষিত ফল না হয়ে উল্টো ইরানিদের মধ্যে প্রতিরোধের মনোভাব বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপক হলেও তা এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত কৌশলগত সাফল্যে পুরোপুরি রূপ নেয়নি।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও তীব্র। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল নিয়ে দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি খোলা হবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।

 

সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং খাদ্যপণ্যের দামও ব্যাপক বেড়েছে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য বিঘ্ন ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।

 

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। ২০ আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে যুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।