নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং নিম্নচাপজনিত বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে কয়েকদিন ধরে বরগুনাজুড়ে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। পৌর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ কাজ না পেয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক পরিবার দৈনন্দিন আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

.
বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী, বামনা ও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘরে পানি ওঠায় স্বাভাবিকভাবে খাবার প্রস্তুত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

.
টানা বৃষ্টির কারণে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে না পারায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

 

কৃষি খাতেও বৃষ্টির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সবজি ক্ষেত ও আমন ধানের জমিতে পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক মাছচাষি জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পুকুর ও ঘের উপচে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 

স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ এবং মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকায় নদ-নদী উত্তাল থাকায় জেলেদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই বরগুনার অনেক এলাকায় একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।