লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় স্কুল ছাত্রের এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণিভর সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এবং ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর হত্যাকারী আব্দুল্লাহ আল মানিক থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। মানিক উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ফুলবাগিচা এলাকার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

সূত্রের তথ্যমতে, আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মানিকের সঙ্গে একই শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। কিছুদিন আগে প্রেম সংঘটিত এ ঘটনা নিয়ে কলেজ ছাত্র ইব্রাহিম খলিল নয়নের সঙ্গে মানিকের বাকবিত-া হয়। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণিভর সড়ক এলাকায় ইব্রাহিম খলিল নয়নকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মো. আরমান ও মো. আশরাফ। এ সময় তাদেরকেও এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করেন মানিক।

 

স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া মো. আরমান ও মো. আশরাফের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

এদিকে, ঘটনার পর কলেজ ছাত্র ইব্রাহিম খলিল নয়নের সহপাঠীরা থানার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা অপরাধীর দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে প্রায় ঘন্টাব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ^াস দেন লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। তার আশ^াসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ঘটনার মূল অভিযুক্ত আটক রয়েছে। এছাড়া সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।