ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদে বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ১০৭ Time View
১৮৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন রশিপট্টি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা, তবে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতির কথা জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাত ১০টার দিকে অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান এবং এ সময় কয়েকটি দোকান খোলা ছিল। হঠাৎ রশিপট্টি এলাকার একটি দোকান থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার দিয়ে ছুটে আসেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের চোখের সামনেই পুড়ে যেতে থাকে দোকান ও মালামাল।

 

 

খবর পেয়ে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সূত্রপাত বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। ক্ষতিগ্রস্ত কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী মোঃ রিয়াদ কাজী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা করছি, আগুন লাগার পর কিছুই বের করতে পারিনি এবং কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে, এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুবই কঠিন। রশি ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরও একই গলিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল, কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং বারবার এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাচ্ছে।

 

নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, রশিপট্টিতে নাইলনের রশি থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে, এতে ১৭টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। মিয়ারহাট বাজারের বিটি মালিক মোঃ মেহজাবিন কিবরিয়া সোয়াইব বলেন, কম করে হলেও প্রতিটি দোকানে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানুষের জানমাল রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দায়িত্ব পালন করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

নেছারাবাদে বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই

Update Time : ০৭:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
১৮৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন রশিপট্টি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা, তবে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতির কথা জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাত ১০টার দিকে অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান এবং এ সময় কয়েকটি দোকান খোলা ছিল। হঠাৎ রশিপট্টি এলাকার একটি দোকান থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার দিয়ে ছুটে আসেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের চোখের সামনেই পুড়ে যেতে থাকে দোকান ও মালামাল।

 

 

খবর পেয়ে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সূত্রপাত বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। ক্ষতিগ্রস্ত কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী মোঃ রিয়াদ কাজী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা করছি, আগুন লাগার পর কিছুই বের করতে পারিনি এবং কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে, এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুবই কঠিন। রশি ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরও একই গলিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল, কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং বারবার এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাচ্ছে।

 

নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, রশিপট্টিতে নাইলনের রশি থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে, এতে ১৭টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। মিয়ারহাট বাজারের বিটি মালিক মোঃ মেহজাবিন কিবরিয়া সোয়াইব বলেন, কম করে হলেও প্রতিটি দোকানে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানুষের জানমাল রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দায়িত্ব পালন করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।