ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমতলীতে হাটের খাজনা আদায়কারীকে কুপিয়ে হত্যা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৫৪ Time View
১০২

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমতলী উপজেলার খুরিয়ার খেয়াঘাট এলাকায় মো.মনোয়ার হোসেন মৃধা (৪৫) নামে এক হাটের খাজনা আদায়কারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

বুধবার গভীররাতে এঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ার হোসেন মৃধা আমতলী উপজেলার দক্ষিণ আমতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. জয়নাল মৃধার ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত তাপস খুরিয়ার খেয়াঘাট বাজারের খাজনা আদায়কারী ছিলেন।

 

আমতলী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী সদর ইউনিয়নের খুরিয়ার খেয়াঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে মো.শামসুল হকের বাড়ি সংলগ্ন খালের পাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মনোয়ার হোসেন পড়েছিল। স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে মনোয়র হোসেনকে মুমুর্ষ অবস্থায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনোয়ারের দুই পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুবৃত্তরা। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা পূর্ব শক্রতার জেরে দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। ঘটনার খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

নিহত মনোয়ার হোসেন মৃধা খুরিয়ার খেয়াঘাট বাজের খাজনা আদায়কারী ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি বিদ্যুতের মিস্ত্রীরও কাজ করতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত মনোয়ার হোসেন মাদক কেনা বেচা ও সেবনের সাথে জড়িত ছিলেন। ধারনা করা হচ্ছে এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

 

আমতলী সদর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ খান তাপস জানান, খুরিয়ার খেয়াঘাট হাটের ইজারাদার আমি। আমার সহকারী হিসেবে নিহত মনোয়ার খাজনা আদায় করতেন।

 

আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শুভেন্দু রায় জানান, মনোয়ার হোসেন মৃধার দুই রানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

 

নিহত মনোয়ার হোনের মা বিউটি বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোর পোলাডাওে এইরহম কোপাইয়া মাইর‌্যা হালাইছে মুই এইয়ার বিচার চাই।

 

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, মনোয়ার হেসেনের লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্ততি চলছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

আমতলীতে হাটের খাজনা আদায়কারীকে কুপিয়ে হত্যা

Update Time : ০২:০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
১০২

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমতলী উপজেলার খুরিয়ার খেয়াঘাট এলাকায় মো.মনোয়ার হোসেন মৃধা (৪৫) নামে এক হাটের খাজনা আদায়কারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

বুধবার গভীররাতে এঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ার হোসেন মৃধা আমতলী উপজেলার দক্ষিণ আমতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. জয়নাল মৃধার ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত তাপস খুরিয়ার খেয়াঘাট বাজারের খাজনা আদায়কারী ছিলেন।

 

আমতলী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী সদর ইউনিয়নের খুরিয়ার খেয়াঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে মো.শামসুল হকের বাড়ি সংলগ্ন খালের পাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মনোয়ার হোসেন পড়েছিল। স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে মনোয়র হোসেনকে মুমুর্ষ অবস্থায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনোয়ারের দুই পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুবৃত্তরা। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা পূর্ব শক্রতার জেরে দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। ঘটনার খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

নিহত মনোয়ার হোসেন মৃধা খুরিয়ার খেয়াঘাট বাজের খাজনা আদায়কারী ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি বিদ্যুতের মিস্ত্রীরও কাজ করতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত মনোয়ার হোসেন মাদক কেনা বেচা ও সেবনের সাথে জড়িত ছিলেন। ধারনা করা হচ্ছে এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

 

আমতলী সদর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ খান তাপস জানান, খুরিয়ার খেয়াঘাট হাটের ইজারাদার আমি। আমার সহকারী হিসেবে নিহত মনোয়ার খাজনা আদায় করতেন।

 

আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শুভেন্দু রায় জানান, মনোয়ার হোসেন মৃধার দুই রানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

 

নিহত মনোয়ার হোনের মা বিউটি বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোর পোলাডাওে এইরহম কোপাইয়া মাইর‌্যা হালাইছে মুই এইয়ার বিচার চাই।

 

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, মনোয়ার হেসেনের লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্ততি চলছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।