ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় জমির বিরোধে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে ছাত্রলীগ নেতার বাবার মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৬৩ Time View
১৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আলম ফিটার (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান মিয়ার বাবা এবং সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণঘাটা বাজার এলাকার মৃত ধলু মাঝির ছেলে।

 

সোমবার (১১ মে) সকাল ৬টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা ও একটি নারিকেল গাছকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আল-আমিন ও ইলিয়াসদের সঙ্গে আলম ফিটারের পরিবারের বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার (১০ মে) দুপুর দেড়টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন আলম ফিটার।

 

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় নেওয়া হলে সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের ছেলে তাওহীদ, পুত্রবধূ আদুরি ও স্ত্রী ফরিদা বেগম। তারা বর্তমানে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে জমিসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করা হলেও প্রতিপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মানেনি। তাদের দাবি, রোববার নারিকেল গাছকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আলম ফিটারের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আল-আমিন, ইলিয়াস, নিজাম, ইব্রাহিম, সাইফুল, ইউনুস বয়াতি, আবু সালেহ ও কহিনুর সহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

 

ছাত্রলীগের নেতা ফোরকান বলেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মধ্যে ছিলাম। প্রতিপক্ষরা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আমার বাবার ওপর হামলা চালানোর সাহস পেয়েছে। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

 

এবিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, জমির সীমানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই গতকাল দুই পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

 

ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরগুনায় জমির বিরোধে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে ছাত্রলীগ নেতার বাবার মৃত্যু

Update Time : ১২:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
১৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আলম ফিটার (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান মিয়ার বাবা এবং সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণঘাটা বাজার এলাকার মৃত ধলু মাঝির ছেলে।

 

সোমবার (১১ মে) সকাল ৬টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা ও একটি নারিকেল গাছকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আল-আমিন ও ইলিয়াসদের সঙ্গে আলম ফিটারের পরিবারের বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার (১০ মে) দুপুর দেড়টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন আলম ফিটার।

 

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় নেওয়া হলে সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের ছেলে তাওহীদ, পুত্রবধূ আদুরি ও স্ত্রী ফরিদা বেগম। তারা বর্তমানে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে জমিসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করা হলেও প্রতিপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মানেনি। তাদের দাবি, রোববার নারিকেল গাছকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আলম ফিটারের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আল-আমিন, ইলিয়াস, নিজাম, ইব্রাহিম, সাইফুল, ইউনুস বয়াতি, আবু সালেহ ও কহিনুর সহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

 

ছাত্রলীগের নেতা ফোরকান বলেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মধ্যে ছিলাম। প্রতিপক্ষরা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আমার বাবার ওপর হামলা চালানোর সাহস পেয়েছে। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

 

এবিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, জমির সীমানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই গতকাল দুই পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

 

ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।