ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালবাসীর পানির কষ্ট শেষ, সচল রূপাতলী শোধনাগার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৭ Time View
৮৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরের অনেক পরিবারের দিন শুরু হতো একটাই প্রশ্ন দিয়ে—আজ পানি পাওয়া যাবে তো? কারো সকাল কাটত কলের সামনে অপেক্ষায়, কেউ আবার দূর থেকে পানি এনে দিনের চাহিদা মেটাতেন। দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তির মধ্যে অবশেষে স্বস্তির খবর এলো। নগরের রূপাতলীতে ১৬ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগারটি আবার চালু হয়েছে।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের পানিসংকটে থাকা নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, শোধনাগারটি দীর্ঘদিন ধরে আংশিক অকার্যকর থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে অনেক পরিবারকে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। কেউ টিউবওয়েল বা পুকুরের পানি ব্যবহার করেছে।

কেউ আবার অতিরিক্ত খরচ করে বোতলজাত পানি কিনেছেন। ফলে সুপেয় পানির সংকট নগরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছিল।

সম্প্রতি প্ল্যান্টটিতে বড় ধরনের মেরামত, যন্ত্রপাতি পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন এটি প্রতিদিন প্রায় ১৬ মিলিয়ন লিটার পানি শোধন করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা বলেন, এই শোধনাগার চালু হওয়ায় শুধু পানি সরবরাহই বাড়বে না, নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। নিরাপদ পানি নিশ্চিত হলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং মানুষের দৈনন্দিন চাপও কমবে।

 

বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই প্ল্যান্ট চালুর মাধ্যমে মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।

 

নগরের বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিমধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন নারী ও শিশুরা, যাদের ওপর পানি সংগ্রহের বাড়তি চাপ ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশালবাসীর পানির কষ্ট শেষ, সচল রূপাতলী শোধনাগার

Update Time : ১১:০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৮৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরের অনেক পরিবারের দিন শুরু হতো একটাই প্রশ্ন দিয়ে—আজ পানি পাওয়া যাবে তো? কারো সকাল কাটত কলের সামনে অপেক্ষায়, কেউ আবার দূর থেকে পানি এনে দিনের চাহিদা মেটাতেন। দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তির মধ্যে অবশেষে স্বস্তির খবর এলো। নগরের রূপাতলীতে ১৬ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগারটি আবার চালু হয়েছে।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের পানিসংকটে থাকা নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, শোধনাগারটি দীর্ঘদিন ধরে আংশিক অকার্যকর থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে অনেক পরিবারকে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। কেউ টিউবওয়েল বা পুকুরের পানি ব্যবহার করেছে।

কেউ আবার অতিরিক্ত খরচ করে বোতলজাত পানি কিনেছেন। ফলে সুপেয় পানির সংকট নগরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছিল।

সম্প্রতি প্ল্যান্টটিতে বড় ধরনের মেরামত, যন্ত্রপাতি পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন এটি প্রতিদিন প্রায় ১৬ মিলিয়ন লিটার পানি শোধন করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা বলেন, এই শোধনাগার চালু হওয়ায় শুধু পানি সরবরাহই বাড়বে না, নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। নিরাপদ পানি নিশ্চিত হলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং মানুষের দৈনন্দিন চাপও কমবে।

 

বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই প্ল্যান্ট চালুর মাধ্যমে মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।

 

নগরের বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিমধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন নারী ও শিশুরা, যাদের ওপর পানি সংগ্রহের বাড়তি চাপ ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।