ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অফিস ভাঙচুর করলেন বিক্ষুব্ধ নারীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯০ Time View
১৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্দোলনের মুখে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তারের পর বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ নারীরা।

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকায় জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে থাকা অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘পদক্ষেপ’ এনজিওর নামে অফিসটি দখলে নিয়েছিলেন বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন চৌধুরী। এনজিও কার্যালয়ের নামে কক্ষটি নেওয়া হলেও সেটাকে তিনি রাজনৈতিক অফিস হিসেবে ব্যবহার করতেন। ওই কার্যালয়কে তিনি টর্চার সেল বানিয়ে রেখেছিলেন। তার যন্ত্রণায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এ কারণে ওই অফিসটি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

 

অভিযুক্ত মিল্টন নগরীর কাউনিয়া বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। ইতিপূর্বে দলীয় কর্মীকে হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার হন মিল্টন। বহিষ্কারের পরও তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন।

 

এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কাউনিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। ওই দিনই চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে কাউনিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। বিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

 

এদিকে, গ্রেপ্তার মিল্টন রোববার আদালতে জামিনের আবেদন করেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেন। এরপর রাতে পুলিশের সামনেই নতুন বাজার জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে মিল্টনের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে স্থানীয় নারী-পুরুষরা। এ সময় তার অফিস কক্ষের টেবিলের ড্রয়ারে মেয়েদের আপত্তিকর জিনিস পাওয়া যায়।

 

এদিকে, ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়তে হয় তাদের। এ কারণে ভাঙচুরে বাধা দিতে যাননি তারা। তবে এনিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি ঘটনাস্থলে থাকা থানা পুলিশ।

 

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলামকে সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিল্টনের অফিসে ভাঙচুর করেছেন৷ তবে ঘটনাস্থল কাউনিয়া থানার অধীনে হওয়ায় আমাদের থানা পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশালে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অফিস ভাঙচুর করলেন বিক্ষুব্ধ নারীরা

Update Time : ১২:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
১৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্দোলনের মুখে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তারের পর বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ নারীরা।

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকায় জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে থাকা অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘পদক্ষেপ’ এনজিওর নামে অফিসটি দখলে নিয়েছিলেন বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন চৌধুরী। এনজিও কার্যালয়ের নামে কক্ষটি নেওয়া হলেও সেটাকে তিনি রাজনৈতিক অফিস হিসেবে ব্যবহার করতেন। ওই কার্যালয়কে তিনি টর্চার সেল বানিয়ে রেখেছিলেন। তার যন্ত্রণায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এ কারণে ওই অফিসটি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

 

অভিযুক্ত মিল্টন নগরীর কাউনিয়া বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। ইতিপূর্বে দলীয় কর্মীকে হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার হন মিল্টন। বহিষ্কারের পরও তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন।

 

এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কাউনিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। ওই দিনই চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে কাউনিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। বিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

 

এদিকে, গ্রেপ্তার মিল্টন রোববার আদালতে জামিনের আবেদন করেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেন। এরপর রাতে পুলিশের সামনেই নতুন বাজার জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে মিল্টনের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে স্থানীয় নারী-পুরুষরা। এ সময় তার অফিস কক্ষের টেবিলের ড্রয়ারে মেয়েদের আপত্তিকর জিনিস পাওয়া যায়।

 

এদিকে, ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়তে হয় তাদের। এ কারণে ভাঙচুরে বাধা দিতে যাননি তারা। তবে এনিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি ঘটনাস্থলে থাকা থানা পুলিশ।

 

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলামকে সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিল্টনের অফিসে ভাঙচুর করেছেন৷ তবে ঘটনাস্থল কাউনিয়া থানার অধীনে হওয়ায় আমাদের থানা পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসেন।