
নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানী সংকটে চাহিদার এক তৃতীয়াংশেরও বেশী ঘাটতির মধ্যে আকাশে মেঘ জমলেই বরিশাল বিভাগীয় সদরসহ এ অঞ্চলে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলা সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
বিদ্যুৎ সংকটের চেয়েও বিভ্রাট ক্রমশ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। টানা ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চ বরিশালে সামান্য বৃষ্টিপাতের পরে আরো ৩ দফায় যে সর্বমোট ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতিটি দিনই বরিশাল মহানগরী সহ পুরো অঞ্চল যুড়ে বিদ্যুৎ বিতরন ও সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার রাত সোয়া ১১টা থেকে মঙ্গলবার রাতে সোয়া য২টা পর্যন্ত এ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোন শেষ ছিলনা।
এমনকি গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর নবগ্রাম রোড সাব-স্টেশনটি বন্ধ রেখে ‘জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ’ কাজ করার ৪৮ ঘণ্টা পরে সোমবার রাতে পুনরায় সাব-স্টেশনটি সহ সংযুক্ত একাধিক ১১ কেভী লাইনের ফিডারগুলোতে গোলযোগ দেখা দেয় সামান্য বৃষ্টিতে। রাত সোয়া ১১টা থেকে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর দুঃসহ গরমে নগরবাসীকে রাতের ২.২০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বিদ্যুতের আশায়।
এ ব্যপারে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি-ওজোপাডিকো’র নির্বাহী পরিচালকের সাথে মঙ্গলবার রাতে আলাপ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে অবহিত আছেন বলে জানিয়ে প্রতিটি এলাকায় নিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সব প্রকৌশলী সহ ফিডার ইন চার্জদের নিবিড়ভাবে নজরদারি সহ দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ প্রদানের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আসন্ন কালবৈশাখি সহ বর্ষা মৌসুমে কারো অবহেলায় গ্রাহকসেবা ব্যাহত হলে কোম্পানি কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বৃষ্টির আকালের সাথে চলমান জ¦লাবনী নিয়ে উৎকণ্ঠার মাঝে দক্ষিণাঞ্চলের মাঠে থাকা প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে বোরো ধানে সেচ নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই সোমবার মধ্যরাতের হালকা বর্ষণে কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। সাথে মাঠে থাকা প্রায় ১৮ লাখ টন তরমুজ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেও এ বর্ষণে কৃষিযোদ্ধাগন খুব উৎকণ্ঠিত নয় এখনো। হালকা থেকে মাঝারী এ বৃষ্টিপাত মাঠে থাকা প্রায় ৪০ হাজার হেক্টরের তরমুজ বাগানের কোন ক্ষতি করেনি।
তবে এবার বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে যে প্রায় ৩৫ লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে, তার অন্তত ১৮ লাখটন এখনো মাঠে থাকার কারণ ডিজেল সংকটে পরিবহন ব্যবস্থার ধীরগতি। ঈদের সময় টানা ৭দিনের পরে আরো ৩ দিনের বন্ধে ডিলারগন ডিপো থেকে তেল খালাশ করতে পারেন নি। ফলে ট্রাক ও নৌযানের অভাবে মাঠ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরমুজের চালান ব্যহত হয়েছে। ফলে কৃষকরা সময়মতো তরমুজ তুলতে পারেনি। তবে গত একসপ্তাহে পরিবহন সংকট কেটে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চল থেকে সারা দেশে সড়ক ও নৌপথে তরমুজের চালান প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কৃষকগনও দ্রুত তরমুজ তুলে আড়তে পাঠাচ্ছেন।
এদিকে প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে অন্তত ১৮ লাখটন বোরো চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে মাঠে মাঠ কৃষকগন এখন পরিচর্যায় ব্যস্ত। মাঠে মাঠে থোর ও ফুল পর্যায়ের বোরো ধান অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কঠিন সময় পাড় করছে। কিন্তু টানা ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চ প্রথম হালকা বৃষ্টির পরে আরো ৩ দফায় মার্চ যুড়ে মাত্র ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। ফলে কৃষকগন একবার ধানের দিকে আরেকবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছিলেন।
তবে এরই মাঝে মঙ্গলবার রাতের প্রথম প্রহর থেকে শেষরাত পর্যন্ত বরিশালে ১, পটুয়াখালীতে ৯, খেপুপাড়ায় ২ ও ভোলাতে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে কৃষকের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ সময়ে বরিশাল সন্নিহিত মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরেও হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমি শিক্ত হয়েছে। ফলে মাঠে সেচ কিছুটা কম প্রয়েজন হওয়ায় জ¦ালানী ও ব্যায় সাশ্রয় হবে বলে আশাবাদী কৃষিবীদগনও।
এদিকে গত ৫ মাস ধরে বরিশালে বৃষ্টিপাতের ঘাটতির পরে দীর্ঘ মেয়াদি বুলেটিনে এপ্রিল মাসে বরিশালে ১২০-১৪০ এবং মে মাসে ২৩০-২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে ৭ এপিল পর্যন্ত বরিশালে মাত্র ১ মিলি বৃষ্টির দেখা মিলেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেও বরিশালের আকাশে মেঘের ঘনঘটার সাথে বজ্র গর্জন শোনা গেলেও রাত ৮টা পর্যন্ত কোন বৃষ্টি হয়নি।
Reporter Name 









