ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে উপলক্ষে ভোলায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু, জননিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে কোস্টগার্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫৯ Time View
১১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপনে প্রিয়জনদের সান্নিধ্য পেতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ভোলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্রগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী থেকে লঞ্চ ও নানা পরিবহনযোগে প্রান্তিক মানুষেরা এখন বাড়ি আসছেন।

ঈদে ঘরমুখো নৌ-পথযাত্রীদের জন্য লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম বুকিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ঢাকা-ভোলা নৌ পথের সবগুলো বিলাস বহুল লঞ্চের কেবিন অগ্রিম বুকিং শেষ হয়েছে আরো দুই সপ্তাহ আগেই। এতে ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পেয়ে খুশি যাত্রীরা। যাত্রীর চাপ বাড়লে স্পেশাল সার্ভিস আরো চালু করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দপ্তর।

সংস্থাটির ভোলার চরফ্যাশন আঞ্চলিক বন্দর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ঈদে ভোলার ৭ উপজেলার কমপক্ষে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের নৌযাত্রা স্বস্তি ও আরামদায়ক করতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য নতুন নৌযান সংযোজন করেছে।

তিনি বলেন, এ লঞ্চগুলো ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলায় সদ্য নির্মিত ঘাট থেকে প্রতিদিন ভোলার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাচ্ছে। একেবারেই সি-সার্ভে করা সরকারি লঞ্চগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি লঞ্চগুলোও এখান থেকে চলতে শুরু করেছে। এছাড়া ঢাকার সদর ঘাট টার্মিনাল থেকেও লঞ্চগুলো ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

ভোলার বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদে ঢাকা থেকে ভোলাগামী লঞ্চগুলোর প্রায় শতভাগ টিকিট ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। এদিকে নৌ পথে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌ পথের জৌলুশ কমলেও ঢাকা-ভোলা নৌরুটটি এখনো জমজমাট রয়েছে। বিলাসবহুল সব লঞ্চগুলো বরিশাল ছেড়ে এখন ভোলা রুটে ঝুঁকেছে।

ঢাকা-ভোলা নৌ রুটের ব্রাদার্স নেভিগনেশন কোম্পানীর ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন জানান, ঢাকা থেকে আসা যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত লঞ্চ রাখা হয়েছে। যদি অতিরিক্ত ভিড় পরিলক্ষিত হয়, তাহলে লঞ্চের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

এম ভি দোয়েল পাখি ১০ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানান, ঈদ যাত্রার জন্য লঞ্চের টিকিট ১৬ তারিখ পর্যন্ত সেল শেষ হয়েছে। ১৮ তারিখেরটাও সেল ফুল হয়েছে। আর ১৯ তারিখের জন্য কিছু খালি আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সড়ক পথের চেয়ে নৌ পথ আরামদায়ক হওয়ায় অনেকেই ভিড় করছেন লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে। ঈদের দু’সপ্তাহ আগেই কেবিনের টিকেট অগ্রিম বুকিং চালু করায় ভোগান্তি কমেছে বলে জানান যাত্রীরা। আর ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

ঢাকা থেকে-ভোলা উদ্দেশ্যে আসা নৌ রুটের যাত্রী আবুল বাশার, রহিম ও লুনা বেগের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, যাত্রীরা ভিড়ের মধ্যে একটু নিরিবিলি স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে চায়। এজন্যই আমরা টিকিট কাটতে এসেছি আর টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে নৌপথে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় থাকবে বাড়তি ব্যবস্থা। যাত্রীর চাপ বাড়লে লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে স্পেশাল ট্রিপ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র এ কর্মকর্তা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে ভোলা ও বরিশাল রুটে আমাদের ১৬ টি লঞ্চ রয়েছে। সবগুলো লঞ্চই চলতে শুরু করেছে। ঘরমুখো যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপনের জন্য আসতে পারে সেলক্ষ্যে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে স্পেশাল সার্ভিস চালু করা হবে।

এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন।

গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে বাহিনীটি।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও খেয়াঘাটে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় ভোলা জেলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর, চৌমুহনী; লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ও আলেকজান্ডার; বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানিয়া ও পুরাতন হিজলা; পটুয়াখালীর আলীপুর, পটুয়াখালী ও কলাপাড়া; নোয়াখালীর তমুরুদ্দিন ও রাম নেওয়াজ; এবং বরগুনা জেলার কাঠছিড়া ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসময় বিশেষ টহল, জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি এবং যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের প্রতিটি সদস্য সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এর ফলে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নিবির্ঘ্নে যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

কোস্টগার্ডের এ নিরাপত্তা কার্যক্রম দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে এবং ঈদুল ফিতরের পরবর্তী সময়েও যাত্রীদের নৌযাত্রা নিরাপদ রাখতে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. মো.শামীম রহমান জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রশাসন নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদল্লাহ কাউছার গণমাধ্যমকে জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ বাহিনী ভোলার প্রতিটি লঞ্চ টার্মিনালগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

ঈদে উপলক্ষে ভোলায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু, জননিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে কোস্টগার্ড

Update Time : ০৮:২০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
১১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপনে প্রিয়জনদের সান্নিধ্য পেতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ভোলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্রগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী থেকে লঞ্চ ও নানা পরিবহনযোগে প্রান্তিক মানুষেরা এখন বাড়ি আসছেন।

ঈদে ঘরমুখো নৌ-পথযাত্রীদের জন্য লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম বুকিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ঢাকা-ভোলা নৌ পথের সবগুলো বিলাস বহুল লঞ্চের কেবিন অগ্রিম বুকিং শেষ হয়েছে আরো দুই সপ্তাহ আগেই। এতে ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পেয়ে খুশি যাত্রীরা। যাত্রীর চাপ বাড়লে স্পেশাল সার্ভিস আরো চালু করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দপ্তর।

সংস্থাটির ভোলার চরফ্যাশন আঞ্চলিক বন্দর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ঈদে ভোলার ৭ উপজেলার কমপক্ষে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের নৌযাত্রা স্বস্তি ও আরামদায়ক করতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য নতুন নৌযান সংযোজন করেছে।

তিনি বলেন, এ লঞ্চগুলো ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলায় সদ্য নির্মিত ঘাট থেকে প্রতিদিন ভোলার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাচ্ছে। একেবারেই সি-সার্ভে করা সরকারি লঞ্চগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি লঞ্চগুলোও এখান থেকে চলতে শুরু করেছে। এছাড়া ঢাকার সদর ঘাট টার্মিনাল থেকেও লঞ্চগুলো ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

ভোলার বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদে ঢাকা থেকে ভোলাগামী লঞ্চগুলোর প্রায় শতভাগ টিকিট ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। এদিকে নৌ পথে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌ পথের জৌলুশ কমলেও ঢাকা-ভোলা নৌরুটটি এখনো জমজমাট রয়েছে। বিলাসবহুল সব লঞ্চগুলো বরিশাল ছেড়ে এখন ভোলা রুটে ঝুঁকেছে।

ঢাকা-ভোলা নৌ রুটের ব্রাদার্স নেভিগনেশন কোম্পানীর ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন জানান, ঢাকা থেকে আসা যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত লঞ্চ রাখা হয়েছে। যদি অতিরিক্ত ভিড় পরিলক্ষিত হয়, তাহলে লঞ্চের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

এম ভি দোয়েল পাখি ১০ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানান, ঈদ যাত্রার জন্য লঞ্চের টিকিট ১৬ তারিখ পর্যন্ত সেল শেষ হয়েছে। ১৮ তারিখেরটাও সেল ফুল হয়েছে। আর ১৯ তারিখের জন্য কিছু খালি আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সড়ক পথের চেয়ে নৌ পথ আরামদায়ক হওয়ায় অনেকেই ভিড় করছেন লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে। ঈদের দু’সপ্তাহ আগেই কেবিনের টিকেট অগ্রিম বুকিং চালু করায় ভোগান্তি কমেছে বলে জানান যাত্রীরা। আর ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

ঢাকা থেকে-ভোলা উদ্দেশ্যে আসা নৌ রুটের যাত্রী আবুল বাশার, রহিম ও লুনা বেগের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, যাত্রীরা ভিড়ের মধ্যে একটু নিরিবিলি স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে চায়। এজন্যই আমরা টিকিট কাটতে এসেছি আর টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে নৌপথে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় থাকবে বাড়তি ব্যবস্থা। যাত্রীর চাপ বাড়লে লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে স্পেশাল ট্রিপ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র এ কর্মকর্তা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে ভোলা ও বরিশাল রুটে আমাদের ১৬ টি লঞ্চ রয়েছে। সবগুলো লঞ্চই চলতে শুরু করেছে। ঘরমুখো যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপনের জন্য আসতে পারে সেলক্ষ্যে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে স্পেশাল সার্ভিস চালু করা হবে।

এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন।

গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে বাহিনীটি।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও খেয়াঘাটে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় ভোলা জেলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর, চৌমুহনী; লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ও আলেকজান্ডার; বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানিয়া ও পুরাতন হিজলা; পটুয়াখালীর আলীপুর, পটুয়াখালী ও কলাপাড়া; নোয়াখালীর তমুরুদ্দিন ও রাম নেওয়াজ; এবং বরগুনা জেলার কাঠছিড়া ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসময় বিশেষ টহল, জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি এবং যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের প্রতিটি সদস্য সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এর ফলে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নিবির্ঘ্নে যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

কোস্টগার্ডের এ নিরাপত্তা কার্যক্রম দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে এবং ঈদুল ফিতরের পরবর্তী সময়েও যাত্রীদের নৌযাত্রা নিরাপদ রাখতে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. মো.শামীম রহমান জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রশাসন নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদল্লাহ কাউছার গণমাধ্যমকে জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ বাহিনী ভোলার প্রতিটি লঞ্চ টার্মিনালগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনেছে।