ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালের ১০ আইনজীবীর হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৫১ Time View
১০০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুর এবং বিচারক সম্পর্কে অবমানানকর মন্তব্যের ঘটনায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ সমিতির ১০ আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

 

তাঁদের নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্ট এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

 

অপর ৯ আইনজীবী হলেন সমিতির সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ (জেলা পিপি), নাজিম উদ্দিন পান্না (মহানগর পিপি), আইনজীবী মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আবদুল বারেক, আবদুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ খান বাবু।

 

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস রাজনৈতিক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন পাওয়ায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে এজলাস চলার সময় একদল আইনজীবী আদালতকক্ষে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল আচরণ করেন। তাঁরা দায়িত্বরত বিচারকের প্রতি অসদাচরণ করেন। আদালতে ভাঙচুর বিষয়ে অবহিত করতে ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বরিশাল মহানগর দায়রা জজের মাধ্যমে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। এই আবেদন এবং এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়।

 

বিষয়টি উপস্থাপনের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১০ আইনজীবীর প্রতি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল দেন। রুলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না এবং আদালত অবমাননার জন্য কেন শাস্তি দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পরবর্তী আদেশের জন্য ১১ মার্চ দিন রাখা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বিষয়টি হাইকোর্টে ওঠে।

 

সে অনুযায়ী ১০ আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান রায়হান শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।

 

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, যাঁদের প্রতি আদালত অবমননার রুল ইস্যু হয়েছিল, তাঁরা সবাই আদালতে হাজির হন এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রর্থনা করেন। ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য তাঁদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

 

১০ আইনজীবীর অন্যতম আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান জানান, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া হয়। আবেদন মঞ্জুর করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তারা অব্যাহতি পেলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশালের ১০ আইনজীবীর হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

Update Time : ০৯:৩৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
১০০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুর এবং বিচারক সম্পর্কে অবমানানকর মন্তব্যের ঘটনায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ সমিতির ১০ আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

 

তাঁদের নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্ট এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

 

অপর ৯ আইনজীবী হলেন সমিতির সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ (জেলা পিপি), নাজিম উদ্দিন পান্না (মহানগর পিপি), আইনজীবী মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আবদুল বারেক, আবদুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ খান বাবু।

 

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস রাজনৈতিক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন পাওয়ায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে এজলাস চলার সময় একদল আইনজীবী আদালতকক্ষে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল আচরণ করেন। তাঁরা দায়িত্বরত বিচারকের প্রতি অসদাচরণ করেন। আদালতে ভাঙচুর বিষয়ে অবহিত করতে ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বরিশাল মহানগর দায়রা জজের মাধ্যমে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। এই আবেদন এবং এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়।

 

বিষয়টি উপস্থাপনের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১০ আইনজীবীর প্রতি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল দেন। রুলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না এবং আদালত অবমাননার জন্য কেন শাস্তি দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পরবর্তী আদেশের জন্য ১১ মার্চ দিন রাখা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বিষয়টি হাইকোর্টে ওঠে।

 

সে অনুযায়ী ১০ আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান রায়হান শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।

 

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, যাঁদের প্রতি আদালত অবমননার রুল ইস্যু হয়েছিল, তাঁরা সবাই আদালতে হাজির হন এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রর্থনা করেন। ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য তাঁদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

 

১০ আইনজীবীর অন্যতম আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান জানান, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া হয়। আবেদন মঞ্জুর করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তারা অব্যাহতি পেলেন।