ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৮১ Time View
১৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

 

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর বাজারে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

 

স্থানীয় সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিলে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উন্মুক্তভাবে স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুন ইতঃপূর্বেও জেলেদের চাল আত্মসাৎ, বিভিন্ন ভাতা থেকে টাকা আদায় সহ নানারকম দুর্নীতির করে পার পেয়ে গেছে। যা একাধিকবার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। এবারও সে (ভি.ডব্লিউ. ভি) প্রোগ্রামের ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল আত্মসাতের চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেটা জানতে পেরে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চালের বস্তা গণনা করে তেরশো কেজি চাল কম পায়।

 

বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হুমায়ুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ৯ মার্চ সরকারি উদ্যোগে দুস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রাম (ভি. ডব্লিউ. ভি) এর এক হাজার তিনশত কেজি চাল কম থাকার অভিযোগ এনে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধরা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে শারীরিক ভাবেও হেনস্তা করে।

 

এ ব্যাপারে ভি.ডব্লিউ. ভি প্রোগ্রামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামিম পারভেজ বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়নে দুস্থ মহিলাদের সহায়তা প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত ২৬৬ টি কার্ড রয়েছে। প্রতি মাসে তারা জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল পায়। চলতি মাস ও আগের ২ মাস বকেয়া সহ মোট ৩ মাসের মোট ২৩ হাজার ৯৪০ কেজি চাল, কলসকাঠি খাদ্য গুদাম থেকে আনার কথা। কিন্তু গুদাম থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল কম আনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের সাথে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রলারে জায়গা না থাকায় এক হাজার তিনশত কেজি চাল গোডাউনে রেখে আসা হয়েছে যা পরে আনা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বাকেরগঞ্জে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

Update Time : ০২:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
১৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

 

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর বাজারে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

 

স্থানীয় সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিলে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উন্মুক্তভাবে স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুন ইতঃপূর্বেও জেলেদের চাল আত্মসাৎ, বিভিন্ন ভাতা থেকে টাকা আদায় সহ নানারকম দুর্নীতির করে পার পেয়ে গেছে। যা একাধিকবার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। এবারও সে (ভি.ডব্লিউ. ভি) প্রোগ্রামের ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল আত্মসাতের চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেটা জানতে পেরে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চালের বস্তা গণনা করে তেরশো কেজি চাল কম পায়।

 

বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হুমায়ুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ৯ মার্চ সরকারি উদ্যোগে দুস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রাম (ভি. ডব্লিউ. ভি) এর এক হাজার তিনশত কেজি চাল কম থাকার অভিযোগ এনে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধরা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে শারীরিক ভাবেও হেনস্তা করে।

 

এ ব্যাপারে ভি.ডব্লিউ. ভি প্রোগ্রামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামিম পারভেজ বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়নে দুস্থ মহিলাদের সহায়তা প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত ২৬৬ টি কার্ড রয়েছে। প্রতি মাসে তারা জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল পায়। চলতি মাস ও আগের ২ মাস বকেয়া সহ মোট ৩ মাসের মোট ২৩ হাজার ৯৪০ কেজি চাল, কলসকাঠি খাদ্য গুদাম থেকে আনার কথা। কিন্তু গুদাম থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল কম আনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের সাথে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রলারে জায়গা না থাকায় এক হাজার তিনশত কেজি চাল গোডাউনে রেখে আসা হয়েছে যা পরে আনা হবে।