ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাথরঘাটায় ছোট বোনের পরকীয়া দেখে ফেলায় বড় বোনকে ধর্ষণচেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৪ Time View
১১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় ছোট বোনের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় বড় বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ওই নারীকে টর্চলাইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন (৩৫) ও তাঁর সহযোগী রুস্তমকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পাথরঘাটার লেমুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন পাথরঘাটা উপজেলার কালিপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর ছোট বোন বাবার বাড়িতে পাশাপাশি ঘরে টিনের বেড়া দিয়ে বসবাস করেন। ছোট বোন তালাকপ্রাপ্ত। তাঁর সঙ্গে প্রতিবেশি নাসির উদ্দিনের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। নাসির প্রায়ই ছোট বোনের ঘরে আসতেন এবং তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হতো বলে অভিযোগ করেন বাদী। বিষয়টি দেখে বড় বোন তাঁকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে বলতেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট দুপুরে নাসির উদ্দিন ছোট বোনের ঘরে যান। একপর্যায়ে তিনি সেখানে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বিষয়টি দেখে ফেলেন বাদী। পরে ছোট বোনকে ডেকে এমন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে বলেন তিনি।

বাদীর দাবি, ওই সময় নাসির উদ্দিন ঘর থেকে বের হয়ে তাঁকে বলেন, তিনি আর কোনো ঘটনা দেখলেও যেন কাউকে কিছু না বলেন।

এর পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে এশার নামাজ শেষে নিজের ঘরে ছিলেন ওই বাদি। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় নাসির উদ্দিন টর্চলাইট জ্বালিয়ে তার ঘরে ঢুকে তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে নাসির তাঁকে টর্চলাইট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

বাদী অভিযোগ করেন, তিনি এ সময় ছোট বোনকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাননি। একপর্যায়ে নাসির তাঁর পরনের কাপড় খুলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নাসিরের কাপড় ছিঁড়ে দেন। প্রায় ২০ মিনিট তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে নাসির উদ্দিন টর্চলাইট দিয়ে ওই নারীকে মারধর করেন। এতে তাঁর বাম হাতের তিনটি আঙুলে ফুলে যাওয়াসহ মারাত্মক জখম হয়। কিছুক্ষণ পর নাসিরের সহযোগী রুস্তম ঘরে ঢুকে তাঁকে টর্চলাইট দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আসামিদের মারধরে গুরুতর আহত হওয়ার পর ১৫ আগস্ট পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন ওই নারী। পরে আদালতে মামলা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ওই আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, বাদির বর্ননা অনুয়ায়ী আসামী একাধিক অপরাধে অপরাধী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

পাথরঘাটায় ছোট বোনের পরকীয়া দেখে ফেলায় বড় বোনকে ধর্ষণচেষ্টা

Update Time : ১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
১১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় ছোট বোনের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় বড় বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ওই নারীকে টর্চলাইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন (৩৫) ও তাঁর সহযোগী রুস্তমকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পাথরঘাটার লেমুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন পাথরঘাটা উপজেলার কালিপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর ছোট বোন বাবার বাড়িতে পাশাপাশি ঘরে টিনের বেড়া দিয়ে বসবাস করেন। ছোট বোন তালাকপ্রাপ্ত। তাঁর সঙ্গে প্রতিবেশি নাসির উদ্দিনের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। নাসির প্রায়ই ছোট বোনের ঘরে আসতেন এবং তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হতো বলে অভিযোগ করেন বাদী। বিষয়টি দেখে বড় বোন তাঁকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে বলতেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট দুপুরে নাসির উদ্দিন ছোট বোনের ঘরে যান। একপর্যায়ে তিনি সেখানে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বিষয়টি দেখে ফেলেন বাদী। পরে ছোট বোনকে ডেকে এমন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে বলেন তিনি।

বাদীর দাবি, ওই সময় নাসির উদ্দিন ঘর থেকে বের হয়ে তাঁকে বলেন, তিনি আর কোনো ঘটনা দেখলেও যেন কাউকে কিছু না বলেন।

এর পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে এশার নামাজ শেষে নিজের ঘরে ছিলেন ওই বাদি। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় নাসির উদ্দিন টর্চলাইট জ্বালিয়ে তার ঘরে ঢুকে তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে নাসির তাঁকে টর্চলাইট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

বাদী অভিযোগ করেন, তিনি এ সময় ছোট বোনকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাননি। একপর্যায়ে নাসির তাঁর পরনের কাপড় খুলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নাসিরের কাপড় ছিঁড়ে দেন। প্রায় ২০ মিনিট তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে নাসির উদ্দিন টর্চলাইট দিয়ে ওই নারীকে মারধর করেন। এতে তাঁর বাম হাতের তিনটি আঙুলে ফুলে যাওয়াসহ মারাত্মক জখম হয়। কিছুক্ষণ পর নাসিরের সহযোগী রুস্তম ঘরে ঢুকে তাঁকে টর্চলাইট দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আসামিদের মারধরে গুরুতর আহত হওয়ার পর ১৫ আগস্ট পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন ওই নারী। পরে আদালতে মামলা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ওই আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, বাদির বর্ননা অনুয়ায়ী আসামী একাধিক অপরাধে অপরাধী।