ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবশেষে খোঁজ মিলল রাহুল গান্ধীর, বাসায় ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কাও

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৮৯ Time View
১৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আটক হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর লোকসভার এই বিরোধীদলীয় নেতাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে বিকেলে তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ অন্য যেসব শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছিল, তাদেরও সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে লোককল্যাণ মার্গের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধী নেতাদের আটক করে। আটকের পর রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে শুরুতে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে। তবে পরে জানা যায়, আটকদের উত্তর দিল্লির মডেল টাউনের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে রাখার পর সন্ধ্যার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচির খবর পেয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে বিপুলসংখ্যক ফোর্স নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিরোধী নেতাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপরই পুলিশ রাহুল গান্ধীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।

এই কর্মসূচির বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিরোধী নেতাদের অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছিল। তবে কংগ্রেস নেতারা এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, তাদের অবস্থান কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

 

আটকের আগে বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে চলে এসেছি। গতকাল ছাত্রদের ওপর হওয়া পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতে আমরা এখানে এসেছি। এই সরকার কোনো দায় নিতে চায় না এবং সংসদে বিতর্কও চায় না। দেশের যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

 

পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ছয়টায় এক্সে দেওয়া অপর এক বার্তায় তিনি দেশবাসীকে এই ধরনায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘ছাত্রদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন তিনি বিনা জবাবদিহিতে পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু এবার তা হবে না। আমাদের ছাত্ররা সুবিচার পাক—এ কথা যারা বিশ্বাস করেন, আমি সেই প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে অনুরোধ করব এই ধরনায় শামিল হতে।

 

মুক্তির পর দলটির নেতাকর্মীরা এই আটকাদেশকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে এবং শিক্ষার অধিকার আদায়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত সোমবার ভারতের সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং নিট পরীক্ষার কারচুপির বিচার দাবিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। অন্যদিকে, পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও শত শত শিক্ষার্থী ও সমর্থক যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা জানান, পুলিশের এই বলপ্রয়োগ তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

অবশেষে খোঁজ মিলল রাহুল গান্ধীর, বাসায় ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কাও

Update Time : ০৪:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
১৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আটক হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর লোকসভার এই বিরোধীদলীয় নেতাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে বিকেলে তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ অন্য যেসব শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছিল, তাদেরও সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে লোককল্যাণ মার্গের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধী নেতাদের আটক করে। আটকের পর রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে শুরুতে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে। তবে পরে জানা যায়, আটকদের উত্তর দিল্লির মডেল টাউনের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে রাখার পর সন্ধ্যার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচির খবর পেয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে বিপুলসংখ্যক ফোর্স নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিরোধী নেতাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপরই পুলিশ রাহুল গান্ধীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।

এই কর্মসূচির বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিরোধী নেতাদের অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছিল। তবে কংগ্রেস নেতারা এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, তাদের অবস্থান কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

 

আটকের আগে বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে চলে এসেছি। গতকাল ছাত্রদের ওপর হওয়া পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতে আমরা এখানে এসেছি। এই সরকার কোনো দায় নিতে চায় না এবং সংসদে বিতর্কও চায় না। দেশের যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

 

পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ছয়টায় এক্সে দেওয়া অপর এক বার্তায় তিনি দেশবাসীকে এই ধরনায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘ছাত্রদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন তিনি বিনা জবাবদিহিতে পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু এবার তা হবে না। আমাদের ছাত্ররা সুবিচার পাক—এ কথা যারা বিশ্বাস করেন, আমি সেই প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে অনুরোধ করব এই ধরনায় শামিল হতে।

 

মুক্তির পর দলটির নেতাকর্মীরা এই আটকাদেশকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে এবং শিক্ষার অধিকার আদায়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত সোমবার ভারতের সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং নিট পরীক্ষার কারচুপির বিচার দাবিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। অন্যদিকে, পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও শত শত শিক্ষার্থী ও সমর্থক যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা জানান, পুলিশের এই বলপ্রয়োগ তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।