নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছার মধ্যে হামের প্রকোপ এখন কিছুটা স্থিতিশীল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করা হলেও ইতোমধ্যে হাম সন্দেহে ২৬ শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিশু শুধু সরকারি হাসপাতালে এসেছে। এমনকি ৩টি শিশু নিশ্চিত হামে মৃত্যু বরণ করেছে বলেও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। সন্দেহভাজন সাড়ে ৪ হাজার রোগীর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার শিশুকে সরকারি হাসপাতালসমূহে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে সাড়ে ৩ হাজার।
পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল বলা হলেও উন্নতির লক্ষণ খুব সুস্পষ্ট নয়। এপ্রিল মাসেই বরিশালের ৪২ উপজেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে যে ২,৮১৬টি শিশু সরকারি হাসপাতালসমূহে আসে, তার মধ্যে ৫১ জনের শরীরে হাম সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ সময়ে যে ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে ৩টি শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
অপরদিকে চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহেও বরিশালের হাসপাতালসমূহে হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১,১৬২টি শিশু আসলেও তার মধ্যে ৯টি শিশু হাম আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এমনকি গত মাসে হাম সন্দেহে ১৫টি শিশুর মৃত্যুর পরে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই আরো ৬টি শিশু মারা গেছে। তবে এসব শিশুর শরীরে হাম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো ধারণা এখনো পাওয়া যায়নি।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, শুক্রবার দুপুরের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালসমূহের বহির্বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০৩টি শিশু আসলেও তার মধ্যে ৯৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এনিয়ে বরিশালের সরকারি হাসপাতালসমূহে হাম সন্দেহে আগত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪,৬৩৬ জনে। আর এপর্যন্ত ভর্তি কৃত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,৯৫৪ হলেও ৩,৫০২ জনই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন।
এদিকে প্রথম পর্যায়ে বরিশাল বিভাগের ৪টি উপজেলা এবং পরে বরিশাল মহানগরী ছাড়াও গত ২০ এপ্রিল থেকে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে হামের টিকা প্রদানে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে তার প্রায় ৯৬ ভাগ অর্জিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০ মে পর্যন্ত এ টিকাদান কর্মসূচি চলবে।
এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে শুক্রবারও হামের উপসর্গ নিয়ে দেড় শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানটিতে ইতোমধ্যে হাম সন্দেহে ১,৭২৬টি শিশুকে ভর্তি করা হলেও ১,৫৮৬ জনকে ঘরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১৬টি শিশু মারা গেলেও তার মধ্যে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম নিয়ে যে ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার সবই বরগুনা জেলায় বলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।