অনলাইন ডেস্ক : : বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন বরিশাল বিভাগের ৫ সংসদ-সদস্য। তাদের মধ্যে ৪ জন বিএনপির আর একজন বিএনপি-সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদ নেতা। মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া এই ৫ জনের মধ্যে মাত্র একজনের রয়েছে ইতঃপূর্বে মন্ত্রণালয় সামলানোর অভিজ্ঞতা। বাকি চারজনই যেমন নতুন, তেমনই বয়সেও তরুণ। তাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে দেশ পরিচালনায় তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তরুণ আর নতুনদের জায়গা দিলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি দক্ষিণের কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং এবার নিয়ে পাঁচবার এমপি হওয়া দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। এছাড়া সমমনা দলের এমপি হিসাবে নুরুল হক নুর মন্ত্রিসভায় গেলেও বাদ পড়েছেন আন্দোলনের সমমনা আরেক দল বিজেপির (নাজিউর) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টি বিএনপিকে দিয়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। সেই হিসাবে বিএনপির কাছে তাদের চাওয়ার তালিকাও বেশ বড়। যার প্রথম ধাপ ছিল মন্ত্রিসভায় জায়গা। মন্দের ভালো হলেও সেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন এখানকার ৫ জন রাজনৈতিক নেতা। যাদের ২ জনকে করা হয়েছে পূর্ণ মন্ত্রী এবং বাকি ৩ জন প্রতিমন্ত্রী। এই পাঁচজন হলেন-ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের এমপি দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের এমপি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-নেসারাবাদ) আসনের এমপি ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর এবং বিএনপির সমর্থনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে এমপি হওয়া গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর। তাদের মধ্যে প্রথমোক্ত ২ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং বাকিরা পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
আলোচ্য ৫ জনের মধ্যে প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন তিনজন নেতা। তারা হলেন রাজিব আহসান, আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর ও নুরুল হক নুর। রাজনৈতিক জীবনে ’৯০-পরবর্তী সময়ে তিনবার এমপি হওয়া জহির উদ্দিন স্বপন এবারই প্রথম পেলেন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব। নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া মেজর (অব.) হাফিজ অবশ্য এর আগেও ছিলেন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী। ’৯০-পরবর্তী সময়ে পাঁচবার এমপি হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে মেজর (অব.) হাফিজ ও জহির উদ্দিন স্বপনের এই মন্ত্রিসভায় আসা কাক্সিক্ষত হলেও বরিশাল অঞ্চলের জন্য সত্যিকার অর্থেই চমক রাজিব, নুর আর সোহেল মঞ্জুর।
জীবনে প্রথমবার এমপি হওয়ার পাশাপাশি বয়সে নবীন এই ৩ নেতা যে মন্ত্রিত্ব পাবেন, সেটা ভাবেনি এখানকার মানুষ। অবশ্য এক্ষেত্রে রাজিব আহসানকে নিয়ে ছিল আলোচনা। কেননা ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে রাজিবের যে ত্যাগ, তার ধারেকাছেও নেই এই অঞ্চলের অন্য কোনো নেতা। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মামলা আর কারা নির্যাতনের শিকার এই বিএনপি নেতা। গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া আন্দোলনের সমমনা দলকে বিএনপির সম্মান জানানোর অংশ বলে মনে করছেন সবাই। এই অঞ্চলের ৫ জন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার পাশাপাশি দলের সিনিয়র ও প্রভাবশালী কয়েকজনের জায়গা না পাওয়া নিয়েও চলছে আলোচনা।
মন্ত্রিসভায় কারা যাচ্ছেন, তা নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা আলোচনার সবকটিতেই নাম ছিল বেগম খালেদা জিয়া শাসনামলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। ’৯০-পরবর্তী সময়ে পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকি-মির্জাগঞ্জ) আসন থেকে এবার নিয়ে তৃতীয়বার এমপি হয়েছেন তিনি। আছেন দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে। সব আলোচনায় নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি তিনি। একইভাবে মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি বরিশাল-৫ (সদর) আসনে পঞ্চমবার এমপি হওয়া দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের। বিএনপি শাসনামলে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন তিনি। এই দুজন ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই না পাওয়ায় বিস্ময় তৈরি হয়েছে বিজেপি (নাজিউর) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়ে। ’৯০-পরবর্তী সময়ে এবার নিয়ে দুবার এমপি হলেন এই স্মার্ট নেতা। সমমনা দলের এমপি হিসাবে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর যেখানে গেলেন মন্ত্রিসভায়, সেখানে পার্থ কেন বাদ পড়লেন, তার কোনো উত্তর মিলছে না। অথচ আওয়ামী শাসনামলে বিএনপি জোটের হয়ে কড়া বক্তব্যে সরকার কাঁপিয়েছেন এই রাজনৈতিক নেতা। জোটভুক্ত দলের এমপি হিসাবে ব্যারিস্টার পার্থ জায়গা পাবেন মন্ত্রিসভায়, তেমনটাই ভেবেছিল এখানকার মানুষ। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন না পেলেও মন্ত্রণালয় সামলানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা আর দলের জন্য ত্যাগের বিবেচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল টেকনোক্র্যাট কোঠায় মন্ত্রী হবেন বলে ধারণা করা হলেও তারা জায়গা পাননি মন্ত্রিসভায়।